ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি মৃত্যু কামনা করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) তেহরানে আয়োজিত বিশাল এই শোকসভায় মঞ্চ পরিবেশক মোহাম্মদ রাসুলি নামের এক কবি ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন, ‘এই পৃথিবী এখন আর ট্রাম্পের জন্য কোনো নিরাপদ জায়গা নয়’।
জানাজা মঞ্চে দাঁড়িয়ে কবি মোহাম্মদ রাসুলি উপস্থিত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষটি কেন এখনও বেঁচে আছে?’ কবির এই আহ্বানে উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ ও ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ বলে স্লোগান দিয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালকদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার এমন সরাসরি আহ্বান এটাই প্রথম হলেও, জানাজা চত্বরজুড়ে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার দাবি সংবলিত অসংখ্য পোস্টার ও গ্রাফিতি আগে থেকেই দেখা যাচ্ছিল।
জানাজার আয়োজনে মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। শোকাহত জনতা কালো পোশাকে ব্যানার ও পতাকা নিয়ে সমবেত হয়েছিলেন। খামেনির তিন ছেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত মোজতবা খামেনিকে আজকের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।
একই সময়ে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক বাহিনীকে ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করার দাবি করেন। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর থেকেই ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইরানের হুমকির বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও ইরান বরাবরই ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে দেশটির কট্টরপন্থীদের প্রচারণায় ট্রাম্প সবসময়ই মূল নিশানা হিসেবে থেকেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজায় এই বিশাল জনসমাগম ইরানের বর্তমান সরকার এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইরান আমেরিকার সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সব ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের শুরুর মুহূর্তেই বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে খামেনি নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার জানাজা অনুষ্ঠানটি এতদিন বিলম্বিত হয়েছিল।
জেএস